সুরা ফাতেহা’র দ্বারা উচ্চপর্যায়ের ফ্রিকোয়েন্সি সৃষ্টির মাধ্যমে প্রার্থনা পদ্ধতিফলদায়ক প্রার্থনা করার জন্য সযত্নে মেডিটেশন চর্চার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হয়। এই পদ্ধতি ক্রমান্বয়ে সুচারুভাবে “বিশ্বাসের প্রার্থনার” দিকে চলে নিয়ে আসে। কোরআনে যেরুপ আছে, প্রচ্ছন্ন বিশ্বাস এবং ধৈর্য্য সহকারে প্রভুর স্মরণ করার কথা। এখানেই সাধারনতঃ প্রার্থনার পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় সাধারন পারফেকশন দ্বারা। এই প্রান্তসীমা অতিক্রম করলেই প্রার্থনা হয়ে ওঠে অসাধারন। যখন পবিত্র কোন মানবাত্মা বিশ্বাসের এই প্রার্থনায় মগ্ন হয়, তখন মহাশক্তিমান আল্লাহতায়ালা মানুষের ইন্টেলেকচুয়াল পারফরমেন্সের কোন ধার ধারেন না। মানুষের সহজ এবং গভীর সরলতার অনুভুতিকেই তিনি মূল্যায়ন করে থাকেন। কারন প্রজ্ঞা কখনোই আবেগকে ইগনাইট করতে পারে না। মানুষের অতি সরল চাওয়াটাই তখন শুধু তাঁকে আকর্ষণ করতে পারে। তাঁর উপস্থিতি ঘোষিত হয় আত্মার মধ্যে আলোকিত বিশ্বাসের পথ অনুসরণ করে। যখন এই চেতনানুভূতির সৃষ্টি হয়, তখন প্রজ্ঞার উন্নততর এক মার্গের অনুরনন ঝংকৃত হতে থাকে হৃদয় অভ্যন্তরে। যা চেতনার নিন্মস্তরের বস্তুজগতকে উপেক্ষা করে যায়। তখন নিজেকে অসীম স্বত্তার নিকতবর্তী বলে প্রতিভাত হতে থাকে। আমিত্ব বা নিজস্বতার বিলুপ্তি ঘটে সে সময়। বিশাল সেই সত্ত্বার অংশ হিসাবে নিজেকে চেনা যায়। এই বিশেষ প্রার্থনা মূহুর্তে তিন রকম মানসিক পর্যায় নির্নীত হয়ে থাকে। প্রথমতঃ মন স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে এক ধরনের শিহরণ বয়ে আনবে এবং আবেশ অনুভূতি বা নেশাগ্রস্থ অবস্থার এক স্তর অতিক্রম করবে। এই অবস্থা উচ্চস্তরের সত্ত্বার আগমনী বার্তা। যা চেতনাজগতে অন্যধরেনের অভিজ্ঞতার সঞ্চার করে দেবার পূর্বশর্ত। প্রার্থনার পূর্বমুহুর্তের অনুভূব থেকে এ এক ভিন্ন ধরনের অনুভূতি। যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির বাইরে এক অনিন্দসুন্দরের হাতছানি। দ্বীতিয়তঃ এই অভিজ্ঞতা চেতনার জগতে এক ঝরঝরে প্রশান্তিকর এ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করবে, যার ব্যাখ্যা দেয়া ভাষায় সম্ভব নয়। এক অপার্থিব আনন্দদায়ক সীমাহীন সুখানুভুতি; যা ভেতরের অদমনীয় আবেগের স্রোতে ঢেউএর আকারে সুপ্রীম সোর্স অব পাওয়ারের দিকে এগিয়েনিয়ে যেতে থাকবে। আনন্দাশ্রু বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো নির্গত হবে। পূনঃ পূনঃ এই ভাবের সঞ্চার হবে। তৃতীয়তঃ সৃষ্টিকর্তার সুনিপূন শক্তিশালী ছায়াতলে পৌঁছানোর সোপানতলে পৌঁছে যাবার পর নিজের মধ্যে এক শিহরণ বয়ে যাবে। সমস্ত শরীর থেকে থেকে ঝাঁকি দিয়ে উঠবে। অবশ্য হৃদয় মন পার্থিব বিষয় বস্তুর পানে ফিরে আসার জন্য অন্য প্রান্ত থেকে টেনে নামাতে থাকবে। এ ধরনের অনুভূতি পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্বেলিত হয়ে উঠতে থাকলে শুধুমাত্র ইছাশক্তির ইতিবাচক এবং নির্ভিক প্রয়োগই স্রষ্টার সমীপে নিয়ে যাবে। চেতনার এই ধরনের অবস্থা কোন সন্দেহের অবকাশই দেবে না- স্রষ্ঠার কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে, মহাশক্তিমান তখন চেতনার চৌকাঠে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনার পূর্ণতা ঘোষনা করেন। এটা সন্দেহাতীত ব্যাপারের মধ্যেই সংঘটন হয়ে থাকে। প্রার্থনা পূর্বের কোন অবস্থাই আর মনে কোন অবস্থান নিতে পারেনা। সৃষ্টিকর্তা হৃদয়ের এই আহবানে কখনোই সাধারণভাবে গ্রহন করেন না। তিনি খুব সহজভাবেই আমাদের শুভ ও সুগভীর সরলতা দ্বারা সিঞ্চিত আকুতিকে সাড়া দিয়ে থাকেন। প্রার্থনা পরিপূর্ণতার লগ্নে হৃদয়ে বিন্দুমাত্র চাঞ্চল্যতার প্রশয় দেয়া চলবে না। এক অপার্থিব ভালোলাগা, বৃহতের নিকট আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে প্রশান্তিকর এক রাজ্যে অবস্থান নিতে হবে। অতি চমৎকার এই সিম্বলিক প্রার্থনায় শুধুমাত্র হৃদয়ের গভীর প্রদেশ থেকে উপলব্ধি করতে হবে সূরা ফাতেহার তাৎপর্য্য। সূরা ফাতেহা ছন্দোবদ্ধ বাংলা কোরআন থেকে কন্ঠস্থ করে নিতে হবে। পান্না চৌধুরীঅনুবাদক, ছন্দোবদ্ধ বাংলা কোরআন। |
